উত্তর ২৪ পরগনায় লাগতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবিরে ভাঙন
দি নিউজ লায়ন; উত্তর ২৪ পরগনায় ধীরে হলেও লাগতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবিরে ভাঙন। অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপিতে নাম লেখালেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিজেপির বনগাঁ সাংগাঠনিক জেলার সহ সভাপতি তপন সিনহা। এর আগে মুকুল রায় তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরের দিনই তিনি বনগাঁ সাংগাঠনিক জেলার বিজেপির সহ সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, বিজেপিতে তিনি কাজ করতে পারছেন না।
অবশ্য, তখন থেকেই জল্পনা চড়ছিলো, তিনি যে কোনওদিন তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। শুধুমাত্র তৃণমূলের সবুজ সঙ্কেতের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। অবশেষে এদিন তৃণমূলে যোগ দিলেন তিনি। তপন সিনহা বরাবরই মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ নেতা হিসাবেই চিহ্নিত ছিলেন। মুকুল রায়ের অনুগামী হিসাবেই ২০১৭ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন তিনি।
এবারে মুকুল রায় তৃণমূলে ফিরতেই তিনিও তৃণমূলে ফিরলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তর ২৪ পরগণা জেলায় শুধুমাত্র তপন সিনহাই নন, মুকুল ঘনিষ্ঠ এমন অনেক নেতাই এখন তৃণমূলে ফেরার জন্য তৈরি হয়ে রয়েছেন। শুধুমাত্র তৃণমূল গ্রীণ সিগন্যাল দিলেই দল বদলের হিড়িক পড়ে যাবে। ইতিমধ্যেই এই জেলার রতন ঘোষ, ফিরোজ কামাল গালী ওরফে বাবু মাষ্টার, কাশেম আলিদের নিয়ে জল্পনা চড়ছে। যারমধ্যে মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ কাশেম আলি ইতিমধ্যেই রাজ্য বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের সহ সভাপতির পদ থেকে ইস্তাফা দিয়েছেন।
বাবু মাষ্টার গতকালই মুকুল রায়ের সল্টলেকের বাড়িতে গিয়ে দেখা করেছেন। ফলে মুকুল রায়ের মাধ্যমে এখন জেলার অনেক নেতাই তৃণমূলে ফেরার রাস্তা সুগম করতে চাইছেন। সেক্ষেত্রে মুকুল রায় তার খেলা শুরু করে ফেলেছেন বলেও মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। যার ফলস্বরুপ তপন সিনহা যোগ দিতে পারলেন তৃণমূলে। ইতিমধ্যেই এই উত্তর ২৪ পরগণা জেলাতে বিজেপির নীচুতলায় ভাঙন লাগতে আরম্ভ করে দিয়েছে।
নীচুতলার অনেকেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তবে মাঝারি মাপের নেতারা এখনও দলীয় নেতৃত্বের সবুজ সঙ্কেত না পাওয়ায় তৃণমূলে ঢুকতে পারছেন না। সেখানে দাঁড়িয়ে মুকুল রায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে জেলার অধিকাংশ দল বদলু নেতারা। তবে তপন সিনহার তৃণমূলে যোগ অনেকটাই সেই রাস্তা সুগম করে দিলো বলে মনে করছেন জেলার রাজনৈতিক মহল।

Post a Comment